উচ্চশিক্ষার গ্রহণের জন্য বিদেশে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি ও করণীয়

0
275

উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আমরা উন্নত দেশের সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা প্রথম ধাপেই চিন্তা করি। আমাদের সমাজে যাদের বাহিরের দেশে আত্বীয়-স্বজন বা অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল তারা আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগের জন্য বাহিরের দেশে পাড়ি জমায়। আবার অনেক মেধাবী স্টুডেন্ট আছে যারা বাহিরের দেশে বা বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য স্কলারশীপের সুযোগ গ্রহণের অপেক্ষা করে থাকেন বা বিভিন্ন উৎস ও সোর্সের মাধ্যমে চেষ্ঠা করে থাকেন। আপনি যেভাবেই উচ্চশিক্ষার জন্য বাহিরে যাওয়ার চিন্তা করেন না কেন। আপনাকে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে একটি পর্যায়ে গিয়ে আপনার উচ্চ শিক্ষার পথে বাধা বা বিপত্তি ঘটে যেতে পারে।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি ও করণীয়

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি ও করণীয়

পূর্ব প্রস্তুতি এমন একটি বিষয় যা আপনাকে সফলতার শীর্ষে পৌছাতে অনেকাংশে সাহায্য করতে পারে। অনেক সফল ব্যক্তির জন্মলগ্ন ইতিহাস বা বায়োগ্রাফি গবেষণা করলেই দেখা যায় তারা যে কোন কিছুর পূর্ব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মাফিক প্রতিদিনের কাজ সম্পাদন করতেন এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ সাধনা করতেন এরই পরের ফলাফল হতো সফলতা ও সফল ব্যক্তি। পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া জীবনে কোন কাজে সফল হওয়া খুবই দুষ্কর।তাই যে সব শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্নের দেশে উচ্চশিক্ষার নেওয়ার জন্য বিদেশে বা বাহিরে যেতে ইচ্ছুক তাদের অবশ্যই পূর্ব প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক।আজ আমরা আলোচনা করব স্টুডেন্ট ভিসার ও উচ্চশিক্ষার পূর্ব-প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে ।

স্টুডেন্ট ভিসা কী ?

একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা বা উচ্চশিক্ষার জন্য যখন নিজের দেশের সীমা অতিক্রম করে অন্য একটি রাষ্ট্রে বা দেশে যেতে ইচ্ছুক হয় এবং দেশের আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী একটি বৈধ প্রক্রিয়া বা উপায় অবলম্বন করে আবেদন ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকেই এই সম্পূর্ণ্য প্রক্রিয়াটি এক অর্থে স্টুডেন্ট ভিসা কার্যক্রম নামে পরিচিত । আর এই যাওয়ার মাধ্যমটা হতে পারে স্টুডেন্ট ভিসা বা স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম বা ইন্টারন্যাশনাল সামার প্র্রোগ্রামের মাধ্যমে।

উচ্চশিক্ষার পূর্ব-প্রস্তুতি ও করণীয়

১. একজন উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর অবশ্যই একটি বৈধ জন্ম সনদ ও পাসপোর্ট থাকতে হবে।

২. বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ১২ বছরের পড়াশোনা (এইচ.এস.সি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হতে হবে)।

৩. যে কোন একাডেমিক ফলাফলে সর্বনিম্ন ৩.০ হতে হবে। এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি দুইটি পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৬.০ থাকতে হবে।

৪. আপনার ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিসটেম বা আইইএলটিএস করা থাকতে হবে। এবং আইইএলটিএস পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৬.৫ এর স্ট্যান্ডার্ড স্কোর তুলতে হবে। কোন কারণে আপনার আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৬.৫ অর্জনে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে সল্প সময়ের জন্য ইএসএল বা ইংলিশ অ্যাজ সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম অংশগ্রহণ করে একটি সনদ বা সার্টফিকেট অর্জন করতে হবে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা আর্ন্তজাতিক মানের ইংরেজী ভাষা টেস্টিং ছাড়াই উচ্চশিক্ষার জন্য বাহিরে ভর্তি হতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। যা অনেক ক্ষেত্রেই আপনার উচ্চ শিক্ষার জন্যে বড় বাধা বা বিপত্তি ঘটাতে পারে। এছাড়াও ভিসা পেতে আপনার অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো দেশে থাকতেই যতটা দ্রুত সময়ে আর্ন্তজাতিক মানের ইংরেজী ভাষা টেস্টিং সনদ অর্জন করা ।

৫. অনেক শিক্ষার্থী তাদের বিভাগ ও শিক্ষার ধরন অনুযায়ী পছন্দ সিলেক্ট করতে গিয়ে অনেক সমস্যা সম্মুখীন হয়ে থাকে । বিজ্ঞান,কলা,বাণিজ্যের ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী বিষয় বা প্রোগ্রাম সিলেক্ট করতে হবে।উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিজ্ঞানের ছাত্রের কলার বিষয় সিলেক্ট করা উচিত নয়। অনেক এই ভূলটা করে থাকেন ফলে দেখা য়ায় ভিসা পেতে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

৬. প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী ফরম ফিলআপ করেই অ্যাডমিশন বা অ্যাকসেপট্যান্স লেটার ইউনিভার্সিটি বা কলেজ থেকে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনার লেটারটি নন-কন্ডিশনাল হয় তাহলে খুব ভালো। টিউশন ফির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। টিউশন ফি বেশি হলে এফোর্ড করতে পারবেন না।

৭. সহজে ভিসা পাওয়ার টিক্স পদ্ধতি হলো আপনাকে অবস্থা অনুযায়ী ন্যূনতম ৬ মাসের প্রথম সেমিষ্টারের টিউশন ফি বাবদ ভিসার আগে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর জমা দিয়ে দিতে হবে। যদি টিউশিন ফি ভিসার পূর্বে জমা না দিয়ে থাকেন তাহলে ভিসা অফিসার আপনাকে গরিব শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।তাই ভিসার আগেই টিউশন ফি জমা প্রদান করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।কিন্তু সেটা এই তথ্য দেখা মাত্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না অবস্থা দেখে ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আপনার নিকট আত্বীয় বা ফার্স্ট ব্লাড সম্পর্ক রয়েছে এরকম কাউকে ব্যাংক স্পন্সর করতে হবে।এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ্য বিষয় বিশেষ করে যখন আপনি ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মত উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। আপনাকে দেশ বা প্রতিষ্ঠান ভেদে নির্ধারিত মানি ব্যাংকে জমার স্টেটম্যান্ট দেখাতে হতে পারে। যিনি আপনার ব্যাংক স্পন্সর হবেন, তার ইনকাম সোর্স ও ট্যাক্স পত্র দেখাতে হতে পারে।

৯.বর্তমানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পোস্ট গ্রাজুয়েট পড়াশোনা করার জন্য জিআরই, জিএমএটি নির্ধারিত করে দেয়। সুতরাং উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের এ বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

১০. যারা পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে দেশের বাহিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের আইইএলটিএস এ গুড ই্উজার গ্রেডসহ ন্যূনতম ২ থেকে ৫ বছরের রিসার্চ পেপার ও পাবলিকেশন থাকতে হবে।

১১. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ ইন্টারভিউ প্রিপারেশন থাকতে হবে। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য নয়।

১২. যে দেশে যেতে ইচ্ছুক সেই দেশের অ্যাম্বাসি থেকে ডকুমেন্ট চেকলিষ্ট অনুযায়ী ভিসার অ্যাপ্লিকেশন ও ডকুমেন্টস তৈরি করতে হবে। যা অ্যাম্বাসি থেকে জেনে নিতে পারেন অথবা নির্ধারিত ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।

১৩. এছাড়াও অ্যাম্বাসি কর্তৃপক্ষ যে কোনো অ্যাডিশনাল ডকুমেন্টস চাইতে পারে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে ।

১৪. আপনি যে দেশে বা রাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে ইচ্ছুক সেই দেশের প্রেক্ষিতে শিক্ষার মান খরচ ও জীবনযাপন ও ভবিষৎ পরিকল্পনায় সম্ভাবনা সাথে অন্য আরো একাধিক রাষ্ট্রের পার্থক্য বিবেচনা করুন। এবং নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার অর্জিত শিক্ষা ভবিষৎতে সেই সেক্টরগুলোতে সম্ভবনা বা আপনার ক্যারিয়ার কতটুকু নিশ্চিত ।

১৫. সর্বশেষ আপনার নিজস্ব জ্ঞান ও চিন্তাভাবনা দ্বারা প্রথমে আপনার উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়ার সকল দিক বিবেচনা ও সমস্যা সমাধানের করার চেষ্ঠা করুন। এবং বিবেচিত প্রায় সকল ধরণের সমস্যার সমাধানের জন্য অবশ্যই প্রথমে অনলাইনের সাহায্য নিন। এরপর বিশেষ প্রয়োজনে একটি বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সরাণাপন্ন হতে পারেন।

বি:দ্র:- উপরোক্ত তথ্য উপাত্তগুলো ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন উৎস থেকে যতটা সম্ভব সঠিকভাবে উপস্থাপন ও আপডেট তথ্য প্রদান  করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার পরেও নির্ধারিত কতৃপক্ষ কতৃর্ক বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন বা পরিমার্জন ও অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। যদি আপনার অতি জরুরী ও নিখুঁত তথ্যের খুবই প্রয়োজন হয় তাহলে নির্ধারিত ওয়েবসাইট ভিজিট করতে ভুলবেন না। নিমোক্ত তথ্যগুলো গুলো শুধুমাত্র আপনার তথ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন