বাংলাদেশ বিমান বহরে যুক্ত হলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার

0
556

বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিমান বহরে যুক্ত হলো চতুর্থ প্রজন্মের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির জ্বালানী সাশ্রয়ী ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। গত ১৯ অাগষ্ট বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে “আকাশবীণা” উড়জাহাজটি পৌছানোর পর ওয়াটার ক্যানন স্যালুট এর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ বিমানের নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে “আকাশবীনা” উড়জাহাজটি দেশে নিয়ে আসার জন্য ১৬ ই আগষ্ট রোজ বুধবার বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল অব ইনামুল বারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পৌছান । উড়জাহাজটি দেশে নিয়ে আসার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাই আগে থেকেই সকল আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সেড়ে ফেলেছিল। ৭৮৭ ড্রীমলাইনার উড়জাহাজটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বহরে মোট বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৫টিতে।

বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার
সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার
মার্কিন উড়জাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান  বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেন কোম্পানী দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট মাঝারি আকারের সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার তৈরি করে থাকে। উড়জাহাজটি মোট তিনটি শ্রেণীতে সর্বনিম্ন ২৪২ থেকে ৩৩৫ জন আহোরী পরিবহন করতে সক্ষম । ড্রিমলাইনার ক্যাটাগরির বিমান যৌগিক পদার্থের মাধ্যমে তৈরি হওয়ার ফলে এভিয়েশন জগৎতে আজ অবদি জ্বলানি সাশ্রয়ী বিমানের খ্যাতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিমানটিতে রয়েছে সর্বাধুনিক বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তির ব্যবহার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যার জন্য প্রায় সকল দেশের উন্নত এয়ারলাইন্সগুলো এই ধরনের বিমান পরিবহণ খ্যাতে ব্যবহার করে থাকে।

বাংলাদেশ বিমান কতৃপক্ষ সকল দিক বিবেচনা করে অাধুনিক ও যুগ-উপযোগী সার্ভিস প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে মার্কিন উড়জাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান  বোয়িং এর সঙ্গে ৪টি ড্রিমলাইনারসহ মোট ১০টি সর্বাধুনিক উড়জাহাজ ক্রয়ের জন্য দুইশত দশ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করা হয়। এরই মধ্যে ৭৭৭-৩৩০ ইআর মডেলের ৪টি এবং বয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের ২টি সহ সর্বমোট ৬টি উড়জাহাজ প্রস্তুত করে কোম্পানিটি বাংলাদেশ বিমান বহরে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। কোম্পানির কাছে চুক্তি মতাবেক ৪টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার পাওয়ার আশ্বাস ছিল। যার বাস্তব রুপ ১৯ আগষ্ট রবিবার ১টি ড্রিমলাইনার হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। এখন বাকি আছে আরোও তিনটি ড্রিমলাইনার যা ক্রমান্বয়ে এবছরের নভেম্বরে ১টি ও আগামী বছরের মধ্যে ২টি বিমান ডেলিভারি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে ।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়জাহাজ
যুক্ত হলো সর্বাধুনিক-প্রযুক্তির-বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার
বিমান বাংলাদেশে যুক্ত হতে যাওয়া সর্বাধুনিক ৪টি বিমানের নাম রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । নামগুলো হচ্ছে ক্রমান্বয়ে আকাশবীণা, হংস বলাকা, গাঙচিল, ও রাজহংস। সম্প্রতি যুক্ত হওয়া উড়জাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে “আকাশবীণা”। বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ বিমান বহরে যুক্ত হওয়া সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ১লা সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অানুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন করবেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন সম্পূর্ণ্য করা হয়েছে। ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মাধ্যমে ঢাকা থেকে মালেশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর টু ঢাকা পরীক্ষামূলক সফল বাণিজ্যিক উড্ডয়ন পরিচালিত হয়েছে। এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা-সিঙ্গাপুর ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে নিয়মিত উড্ডয়ন পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ সাংবাদিকদের আরোও জানান, বিমান বাংলাদেশের জন্য যুক্ত হতে যাওয়া ৭৮৭ ড্রিমলাইনার আকাশবীণাতে রয়েছে টানা ১৬ ঘন্টা যে কোন রুটে উড্ডয়নের সক্ষমতা।এছাড়াও রয়েছে ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকাকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই, ইন্টারন্যাশনাল লাইভ টিভি ও ফোন কল করার সুবিধা ।আকাশবীণায় আসন সংখ্যা রয়েছে সর্বমোট ২৭১টি। এরমধ্যে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য ২৪টি আসন ও যথারীতি সাধারণ বা ইকোনমি ক্লাসের জন্য রয়েছে ২৪৭টি আসন। মজার ব্যাপার হলো বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইল্ড এবং সম্পূর্ণ্য ফ্ল্যাটবেড করার সুবিধা। এক কথায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও আরাদায়ক বিমান যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগান দিবে ৭৮৭ ড্রিমলাইনার নামক আকাশবীণা উড়জাহাজ।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন