পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন : ক্রিকেটার ইমরান খান

0
252
গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের নাগরিক তাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে চলেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার ও পাকিস্তানের তারকা খেলোয়ার ইমরান খানকে। তিনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং তার অধিনায়কত্বের মাধ্যমে পাকিস্তান ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়লাভ করে।
ইমরান খান
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
ক্রিকেট বিশ্বকে বিদায় জানিয়ে ইমরান খান  পরবর্তীতে পাকিস্তানের স্বকীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজনীতির মাঠ তার জন্য বরাবর ছিল খুবই কঠিন ও জটিল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে। তিনি ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে নেমেই পাকিস্তানের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেন এবং নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেন “তেহরিক-ই-ইনসাফ”  । ১৯৯৭ সালে নির্বাচনে দুইটি আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করে হেরে যান। পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটন অঘটনের মধ্যে চলতে থাকে তার রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম।পাকিস্তানের সামরিক শাসনের সময় গৃহবন্দীও ছিলেন কিছুদিন। ২০১৩ সালের পাকিস্তানের ১০ তম নির্বাচনে তার দল “তেহরিক-ই-ইনসাফ” দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আসন লাভ করে । আর বর্তমানে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানের ১১ তম জাতীয় নির্বাচনে তাঁর দল জয়ের পথে হাটঁছে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের জয়ের সাফল্য ও কারোও কারোও বিপর্যয় চোখে পড়ার মত। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সূএ উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইংরেজী দৈনিক পত্রিকা ডন প্রকাশ করেছে : মোট আসন ২৭২ টি মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ১১৯ টি আসনে ইমরান খানের দল পিটিআই সুস্পট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকগণ মনে করছেন পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয়ের পথে ইমরান খান । এখন পর্যন্ত ৪৯% অর্থাৎ অর্ধেকেরও কম আসনে ফলাফলে ইমরান খানের দলের অগ্রয়াত্রা অব্যাহত রয়েছে। তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৩৭ টি আসনে পিটিআই প্রার্থীরা জিততে পারবে কিনা তা নিয়ে এখনও রয়েছে প্রবল শঙ্কা। যদি ঘটনা তাই ঘটে তাহলে ইমরান খানকে কোয়ালিশন সরকার গড়তে সহযোগী দল খুঁজতে হবে।  ফলাফলে এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ নওয়াজ পিএমএলএন পেয়েছে ৬৪টি আসনে এগিয়ে, বিলওয়াল ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি পিপিপি এগিয়ে ৪৩ টি আসনে।

ইমরান খানের দল “তেহরিক-ই-ইনসাফ” এবারের নির্বাচনে মোট পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন । ইমরান খানের দলের পরে দ্বিতীয় বড় দল হিসেবে বেশি আসনে নির্বাচন করেছিলেন নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান মুসলিম লিগের প্রধান হিসেবে বর্তমানে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।নওয়াজ শরীফের দল মোট চারটি আসনে নির্বাচন করে তিনটি আসনে হেরেছে। শুধু মাত্র ১টি আসনে জয় লাভ করেছে এনএ ১৩২ লাহোর আসনে। অন্যদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রায় একই অবস্থা মোট ৩টি আসনে নির্বাচন করে জিতেছে মাত্র ১টি আসনে। অবশ্য তারা এই নির্বাচনে প্রথম প্রার্থী হয়েছেন।

পাকিস্তানের নির্বাচন পরিষদের বরাত দিয়ে পাকিস্তান অনলাইন নিউজ পোর্টাল উর্দু পয়েন্ট একটি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে আসিফ আলি জারদারি ১লাখ ১ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে এনএ ২১৩ নম্বর বেনজিরাবাদ আসনে জয় লাভ করেছে। নিকটতম প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করেছে গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালয়েন্সের প্রার্থী সরদার শের মোহাম্মাদ রেন্দ বালুচ ভোট পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৪৪ ভোট । আসিফ জারদার একটি আসন থেকেই নির্বাচন করেছেন।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন