স্পনসর ছাড়াই যেভাবে পাওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী ভিসা

0
581

অভিবাসন সুযোগ প্রত্যাশীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই অবস্থান হচ্ছে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব ওশেনিয়া অঞ্চলে, দ্বীপ মহাদেশীয় দেশ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রত্তম ৬ষ্ঠ তম মহাদেশ।  অস্ট্রেলিয়ার মোট আয়তন ২৯,৪১,২৯৯ বর্গ মাইল,যার মধ্য বসবাস করছে ২,৫৮,৫১,৩৭৯ জন, মোট মাথা পিছু আয় ৩৮,৯১০ ডলার । দেশটির রাজধানী ক্যানবরা ও বড় শহর সিডনী। অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য দ্বারা গঠিত। সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে দেশটি একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবার সগৌরবে পরিচিত।

অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী ভিসা
স্পনসর ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী ভিসা
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, যাতায়াত, ব্যবসা, চাকুরী, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপত্তাসহ নাগরিকদের মূল চাহিদার পরিপূণ্য ব্যবস্থা রয়েচে দেশটির মধ্যে তাই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রথম পছন্দের দেশের তালিকায় রয়েছে শীর্ষে, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র হতে অভিবাসন প্রত্যাশীরা অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে বসবাস ও কাজের সুযোগ প্রত্যাশী রয়েছে অনেকেই। তবে অনেক ক্ষেত্রে সে সুযোগ বাস্তবে রুপ নিতে রয়েছে দেশটির ভিসার আবশ্যিক শর্ত স্পনসরস্পীশ ব্যবস্থা। তবে সাধারণ ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্য দক্ষ ও অভিক্ষ পেশাদার বা মেধাবী শিক্ষার্থী হলে খুব সহজেই স্পনসরস্পীশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ীভাবে বসবাস করার ভিসা পাওয়া যায়।জিএসএম (জেনারেল স্কিম মাইগ্রেশন) ভিসার মধ্যকার সাবক্লাস ১৮৯ বা স্কিলড ইন্ডিপেডেন্ট ভিসা তেমনই একটি ভিসা প্রসেস স্ট্রিম। অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন বিভাগ যাচাই বাচাই পূর্বক কোন অভিবাসন প্রত্যাশীর মধ্য বিশেষ কোন দক্ষতা, কর্মের অভিজ্ঞতা বা মেধার পরিচয় পায় তাহলে অস্ট্রেলিয়া সেই অভিবাসন প্রত্যাশীকে আমন্ত্রণ জানাবে, এই ভিসাটি একটি স্বাধীন ভিসা তাই কোন প্রকার স্পনসরের প্রয়োজন হবে না। সেই সাথে এই ভিসায় কোন অভিবাসন প্রত্যাশী আমন্ত্রণ পেলে সাবক্লাস ১৮৯ ভিসাধারী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার যেকোন রাজ্যেই কাজের অনুমতি পাবেন।
স্থায়ী ভিসা আবেদনে
অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী ভিসা আবেদনের পদ্ধতি

আবেদনের পূর্বে যে বিষয়গুলো জানতে হবে

জেনারেল স্কিল মাইগ্রেশন ভিসায় শুধুমাত্র দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাদারদের জন্য সুযোগ রয়েছে। তা পরেও প্রতিবছর অসংখ্য অভিবাসনপ্রত্যাশী জিএসএম ভিসায় আবেদনের জন্য অংশগ্রহণ করেন। তাই স্কিলড ইন্ডিপেনডেন্ট ভিসাসহ যেকোন জিএসএম ভিসায় আবেদনের আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করে নিতে হবে। প্রথমেই অষ্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগের ওয়েবাসইট থেকে আবশ্যিক সকল শর্ত আপনি পূরণ করছেন কিনা তা জেনে নিতে হবে। আপনার নির্ধারিত পেশাটি এ ভিসার পেশা তালিকায় লিপিব্ধ রয়েছে কিনা সেটাও অবশ্যই দেখে নিতে হবে। পাশাপাশি আপনি সর্বনিম্ন ৬৫ পয়েন্ট পাবেন কিনা তাও একই ওয়েবসাইট থেকে হিসাব করে নিন। এরপর আপনার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে হাতের কাছে রাখতে হবে। আপনার পেশাটির জন্য আবশ্যিক স্কিল আসেসমেন্টও করে নিতে হবে।

ইওআই জমা দিতে আপনার যা যা করণীয়

জিএসএম ভিসার মতোই সাবক্লাস ১৮৯ ভিসায় সরাসরি আবেদনের সুযোগ নেই। অভিবাসন বিভাগ আপনাকে যাচাই করে আমন্ত্রণ জানালে তবেই আবেদন করা যাবে। আর আমন্ত্রণ পেতে অনলাইনে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেষ্ট পূরণ করে জমা দিতে হবে। এ জন্য অভিবাসনের বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সিলেক্টের মাধ্যমে ইওআই জমা দিতে হবে। ইওআই জমা হলে ইমেইলের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করে দেবে অভিবাসন বিভাগ। যদিও ইআই একবার জমা হয়ে গেলে এর তথ্য আবারও পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে । তা পরেও ইওআই সাবধানে পূরণ করুন। আর আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায় ইওআই পূরণ করেন এবং আপনার বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হতে থাকে, তবে আপনাকে নতুন ভিসায় আবেদন করতে হবে। ইওআই ব্রিজিং ভিসা হিসেবে কাজ করবে না। একবার জমা হয়ে গেলে আপনার অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করতে হবে না। ইওআই জমা হওয়ার সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে এর ফলাফল জানিয়ে উত্তর আসবেই।
জিএসএম ভিসার
জিএসএম ভিসার আমন্ত্রণ পেতে করণীয়

জিএসএম ভিসার আমন্ত্রণ পেলে করণীয়

জিএসএম সাবক্লাস ১৮৯ ভিসার আবশ্যিক শর্ত পূরণ করে সর্বনিম্ন ৬৫ পয়েন্ট অর্জন করলে এ ভিসায় আবেদনের জন্য আমন্ত্রণ পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে আপনার পয়েন্ট যত বেশি হবে , আমন্ত্রণ পাওয়া সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে। ভিসার আমন্ত্রণ পাওয়ার সর্বোচ্চ ৬০ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনাকে আবেদন করতে হবে। তবে লক্ষ্য করুন, জিএসএম সাবক্লাস ১৮৯ বা জিএসএম ভিসায় আমন্ত্রণ পাওয়া মানেই কিন্তু ভিসা মঞ্জুর হওয়া নয়। আপনি আপনার পেশায় কতটা দক্ষ বা অভিজ্ঞ এবং এ ভিসার জন্য কতটা যোগ্য সেটাই কেবল ইওআইয়ের মাধ্যমে যাচাই করেছে অভিবাসন বিভাগ। আপনার ভিসাসংশ্লিষ্ট প্রমাণাটি কিন্তু অভিবাসন বিভাগ এখনো খতিয়ে দেখেনি। সে কাজটিই করা হবে আপনি ভিসায় আবেদন করার পর। অন্যান্য ভিসাগুলোর মতোই এ ভিসায় অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে সকল প্রমাণাদি জমা দিতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সাধারণত ৮ থেকে ১১ মাসের মধ্যেই ফলাফল জানিয়ে আপনাকে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগ মেইল অথবা চিঠি দিয়ে জানাবে।
সাময়িক সংগৃহীত : প্রথমআলো, উইকিপিয়া, অস্ট্রেলিয়ান অভিবাসন আইজীবি।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন