পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের উদ্বোধন করেছেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0
376
পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের রি-অ্যাক্টর ভবনের ভিত্তিতে প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হেলিকাপ্টার যোগে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীর রুপপুর পৌছেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উপপ্রধানমন্ত্রী  ইউরি বরিসভ, রসাটম ফার্স্ট ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল আলেক্সন্ডার লকশিন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালক দোহি হ্যান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মো: আনোযার হোসেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আহমেদ,রুপপুর প্রকল্প পরিচালক সৌকত আকবরসহ বাংলাদেশ ও রাশিয়ান সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও পরমাণু শক্তি কমিশনের উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প
পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধন
গতবছর ৩০শে নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান ইউনিটের কাজ উদ্বোধন করেন যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের প্রথমবারের মত পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ।২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্ববৃহৎ রুপপুর প্রকল্প নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্ভোধন ও ফলক উম্মোচন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসময় এক বক্তব্যে বলেন : রুপপুর প্রকল্প নিয়ে অনেক বিরুপ মন্তব্য শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য উদ্বেগের কিছু হয় নি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রুপপুর প্রকল্প এগোতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী’লীগ সরকার গঠন হয় তখন রুপপুর প্রকল্পের জন্য এক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তখন থেকেই রুপপুর প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল । কিন্তু ২০০১ সালে তাঁর দল সরকার গঠন করতে না পারায় রুপপুর প্রকল্পের কাজের বাস্তবতা এক প্রকার থেকে যায় । ২০০৮ সালে যখন আওয়ামীগ সরকারের বিপুল ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পায় তখন থেকেই রুপপুর প্রকল্পের কাজের বাস্তবতা অগ্রগতি লাভ করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন : এ প্রকল্পের রাশিয়া আমাদের বিশেষ সহয়োগিতা প্রদান করেছে। আমাদের দেশের তরুপ প্রজন্ম যেন পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী হিসেবে বিশ্ব দরবারে হাতছানি দিতে পারে এবং দেশের চাকরির সুযোগ পায় সে জন্য রাশিয়ায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন : এই প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি আলাদা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানকার বর্জ্য কী হবে তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। রাশিয়া এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহয়োগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। পরমাণু শক্তি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে শান্তি ও মানুষের কল্যাণের জন্য। এ জন্য একটি স্বাধীণ পরমাণু শক্তি গঠন করা হয়ছে । যেকোনো দুর্যোগে পরমাণু নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সকল ধরণের পূর্ব পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ
পাবনার রুপপুর পারমাণবিক
প্রধানমন্ত্রী বলেন ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে সেই পরিকল্পনার বাস্তব সম্মত প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে জনগণ পারবে ক্ষুদা দ্রারিদ্র মুক্ত এক বাংলাদেশ গড়তে। সেই অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াসেফ ওসমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উপপ্রধানমন্ত্রী ইউরি বরিসভ । ইউরি বরিসভ বলেন : বাংলাদেশের পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ান সরকার সর্বাত্তক সহযোগিতা করবে। আলেক্সন্ডার লকশিন বলেন : পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটির  নির্মাণকাজে আমরা যথাসম্ভব বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ও লোকবল যুক্ত করার চেষ্ঠা করছি। আমরা বিশ্বাস করি এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট উন্নয়ন সাধন করবে।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন