বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক এখন বাংলাদেশ

0
457
বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১. এটি বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে এক বড় অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে যা দ্বারা দেশের ভাব-মুর্তি অর্জনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। স্যাটেলাইট ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জন করবে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিশ্ব-দরবারে এক অপার সম্ভাবনাময় জগৎ। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের মধ্যে থাকা দুগর্ম, প্রান্তিক এলাকা ও সমুদ্রবর্তী এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের নেটওর্য়াকের আত্ততায় আনা যাবে, দেশের ভিতর ও বাহিরে নিরাপত্তা জোরদার করা ও সেইসাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম ও পরপর্তী সংকেতগুলো সহজে নেওয়া এবং পাঠানো যাবে এছাড়াও স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পাওয়া যাবে বিভিন্ন ধরণের ১৭ এর অধিক সুযোগ-সুবিধা ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১
বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপনের জন্য খরচ  করা হয়েছে ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার স্যাটেলাইটের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে দিয়েছে  ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা যা মোট ব্যায়ের ৪৪ শতাংশ এবং বাকি ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বিদেশী সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে।বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ তৈরির জন্য চুক্তি করা হয়েছিল ফ্রান্সের থাইলস অ্যালেনিয়া স্পেস কোম্পানির সঙ্গে। ২০১৫ সালে বিটিআরসি মাধ্যমে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ বা অরবিটাল স্লট ক্রয় করা হয়েছিল।  ৩.৬০ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ তৈরির কাজ শেষ করে ফ্রান্সের কান শহরের একটি ওয়ারহাউজে রাখা হয়েছিল যা পরে উৎক্ষেপনের জন্য ফ্রান্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণের জন্য চুক্তি করা হয়েছিল মার্কিন বেসরকারি স্পেস গবেষণা সংস্থা “স্পেস-এক্স” এর সাথে ।
স্পেস-এক্স এর সর্ব আধুনিক ফ্যালকন ৯ ফুল থ্রাস্ট রকেটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণ করা হয়। ফ্যালকন ৯ ফুল থ্রাস্ট রকেট সম্পর্কে জানা যায় এই রকেট হচ্ছে একুশ শতকের সর্ব-আধুনিক মহাকাশযান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের এখন ৫৭তম নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মালিক। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় প্রায় ২১৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ক্রয় করা হয়েছে এই অরবিটাল স্লট।আর এই কক্ষপথেই অধিস্থানের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ বহনকারী রকেট প্রতি ৩ সেকেন্ডে ৮ কিলোমিটার গতি নিয়ে এগোচ্ছে। নির্ধারিত স্লটে পৌছানের জন্য রকেটের সময় লাগবে প্রায় ১ সপ্তাহ। পৌছানোর ১৫ বছর পর্যন্ত রাজত্ব করার ক্ষমতা পাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ এর পরেও স্যাটেলাইটের ক্ষমতা ৩ বছার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানা গেছে ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১সঠিকভাবে ল্যান্ডিং করার পর এর প্রথম নিয়ন্ত্রণ পাবে যুক্তরাষ্ট্র,ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে এরপর বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। বাংলদেশ থেকে স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার দুইটি গ্রাউন্ড স্টেশন পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।বাংলাদেশ সময় ১১ মে, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে দেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেণ করা হয়। এর মধ্যে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হলো বাংলাদেশ।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন