ফ্ল্যাট ক্রয়ের পূর্বে আপনাকে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা উচিৎ

0
420

প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা হচ্ছে নিজের একটি নিরাপদ আবাসস্থল। বর্তমান সময়ে সেই চাহিদা পূরণের আক্ষেপ রয়েছে অনেকেরই। একটি নিরাপদ আবাস্থল গড়ে তোলার কথা চিন্তা করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। যদিও বা হয় তার পরেও থাকে নানা ধরনের সমস্যা। বর্তমান বাংলাদেশে জায়গা-জমি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেই জন্য অনেকে জায়গা-জমি ক্রয়ের পর বাড়ি নির্মাণের ঝামেলাতে জড়াতে চান না। তাই অনেকরই প্রথম পছন্দ থাকে সাধ্যের মধ্যে নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট-বাসা। বিশেষত শহরের মধ্যেকার মানুষের কাছে এখন পছন্দের তালিকার শীর্ষে ফ্ল্যাট-বাসা। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে আপনার যদি ফ্ল্যাট ক্রয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে ফ্ল্যাট ক্রয় করার পর অাপনি বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন। বর্তমানে ঢাকাতে ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর দেখা যায় অনেকেই বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।তাই আজকের পো্ষ্টে আলোচনা করা হবে ফ্ল্যাট ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতার করণীয় সম্পর্কে।

ফ্ল্যাট ক্রয় বিক্রয়
ফ্ল্যাট ক্রয়বিক্রয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূণ্য তথ্য

ফ্ল্যাট ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতার করণীয়

আপনি সারা জীবনের কষ্টের সঞ্চয় দিয়ে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করতে চাচ্ছেন তাই ক্রেতা হিসেবে আপনাকে সবথেকে বেশি সাবধান হতে হবে। ফ্ল্যাট ক্রয়ের পূর্বেই অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই নিচের বিষয়গুলি দ্বারা যাচই-বাছাই শুরু করবেন।
১. সর্বপ্রথম আপনাকে দেখতে হবে যে ডেভলাপার প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্ল্যাট ক্রয় করতে চাচ্ছেন উক্ত ডেভেলাপার দেশের আইন অনুযায়ী রিহ্যাব এর দ্বারা নিবন্ধিত আছে কিনা।
২. তাদের আগে কোন অভিজ্ঞতা কিংবা কোন বদনাম আছে কিনা তাও দেখুন। অতীতে তারা কাউকে ঠকিয়েছে কিনা সেঠাও যাচাই করুন । কারণ ডেভলাপার প্রতিষ্ঠান যদি ভালো না হয় তাহলে আপনার ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর অসুবিধার অন্ত থাকবে না।
৩. অবশ্যই দেখে নিতে হবে ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠানটি রিহ্যাবের সদস্য অর্ন্তভূক্ত তালিকায় আছে কিনা। রিহ্যাব হচ্ছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এরা আবাসন সমস্যায় আপনাকে সমাধানে উদ্দ্যেগ নেয়।
৪. এবার আপনাকে দেখতে হবে জমির দলিলপত্র। অর্থাৎ যে জমির উপরে আপনার ফ্ল্যাটটি থাকবে উক্ত স্থানের জমির দলিলপত্র গুলো যাচাই করে দেখুন। কারণ অনেক সময় দেখা যায় ডেভেলাপার কোম্পানিগুলো জমির মালিকদের সাথে চুক্তি করে  অথবা ভেজাল জমির উপর তাদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে আপনাকে ভবিষৎ সমস্যার সম্মুখীন করতে পারে।
৫. তারপর আপনাকে যাচাই করে নিতে হবে জমির মালিকের সাথে ডেভেলাপারের প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্র বা আমমোক্তোরনামটি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ্য কেননা উক্ত চুক্তিপত্রে উল্লেখিত ক্ষমতার বাইরে ডেভেলপার কিছুই করতে পারবেনা। সুতরাং আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার এবং ক্ষমতা কতটুকু।
৬. অবশ্যই এই বিষয়টি দেখবেন আপনি যে ফ্ল্যাটটি ক্রয় করতে চাচ্ছেন উক্ত ফ্ল্যাটটি রাজউক ( রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ) কর্তৃক অনুমোদিত আছে কিনা। রাজউক অনুমোদিত নয় এই ধরণের ফ্ল্যাট ক্রয় না করাটাই উত্তম। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে অনেক সময় দেখতে পাওয়া যায় রাজউক অনুমোদন দিয়েছে ৫ তলার কিন্তু ডেভেলাপার প্রতিষ্টান বিল্ডিং করেছে ৮ তলার। এক্ষেত্রে ৫ তলার উপরের তলাগুলোতে ফ্ল্যাট না ক্রয় করাটাই উত্তম।
৭. উপরের সবগুলো বিষয় ঠিকঠাক থাকলে আপনাকে দেখতে হবে উক্ত ফ্ল্যাটে কি কি মালামাল দেয়া হবে ফিটিংস কি উন্নতমানের নাকি মানসম্পন্ন তা দেখে নিন। কেননা উন্নতমানের যে টাইলস এর দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা সেই একই ধরনের নিম্নমানের যে টাইলস ১০০ টাকায় এখন বাজারে সবসময় পাওয়া যায়।
৮. আপনি কত বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনছেন, তার মধ্যে কমন স্পেস কতটুকু আর মুল ফ্ল্যাট কতটুকু তা সুষ্পষ্টভাবে জেনে নিন।সরেজমিনে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় কমবেশী হলে, কি করতে হবে তা আগেই নির্ধারণ করে ফেলুন এবং চুক্তিপত্রে তা সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
৯. ফ্ল্যাট ক্রয়ের সর্বশেষ কিস্তি দেয়ার সাথে সাথে ডেভলাপার প্রতিষ্ঠানটি কি আপনার ফ্ল্যাটটি রেজিষ্ট্রশন কর দিবে কিনা?কেননা অনেক সময় দেখা যায় যে সর্ম্পূণ্য কিস্তির টাকা পরিশোধিত করা হয়েগেছে কিন্তু তার পরেও বছরের পর বছর ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রেশন করেও দিচ্ছেনা। তাই র্পূর্বে থেকেই নিশ্চিত হয়ে নিন ডেভেলাপর প্রতিষ্ঠান আপনাকে কবে নাগাদ ফ্ল্যাটটির রেজিষ্ট্রশন সম্পন্ন করে দিবে।
১০. ফ্ল্যাট হস্তান্তরে বিলম্ব হলে ক্রেতা কি কি প্রতিকার পাবেন তার বিস্তারিত আগে থেকেই জেনে নিন। কেননা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যায় নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার ৩-৪ বছরের মধ্যেও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করছে না।
উপরোক্ত সবগুলো বিষয় যাচাই-বাছাই করার পর যদি আপনি মনে করেন অাপনি ডেভেলাপর নিকট হতে ফ্ল্যাট ক্রয় করতে ইচ্ছুক তাহলে সমস্ত কাগজ পত্রগুলো একজন আইনজীবীকে দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন এরপরে ফ্ল্যাট বুকিং দিন।
কোন অবস্থাতেই ফ্ল্যাট ক্রয়ের পূর্বে কাগজ-পত্রের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিবেন না । অবশ্যই পরিবার ও নিকটস্থ আত্বীয় স্বজন ও বিশ্বস্থ কোন পূর্ব অভিজ্ঞ ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা পূর্বক সিদ্বান্ত নেওয়াটাই শ্রেয়।

ডেভলাপার ও ফ্ল্যাট ক্রেতার মধ্যকার সমস্যা ও সমাধান

ডেভেলাপার কতৃক চুক্তিপত্র ভঙ্গ করা হলে প্রথমেই চেষ্ঠা করুন আলোচনার মাধ্যমে উক্ত সমস্যাটি সমাধান করার । আলোচনার মাধ্যমে উক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে বিবদমান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আদালতে মামলা করতে পারবেন। এই আইনের অধীনে অপরাধগুলো প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য। আপনারা যদি একটু সচেতন হয়ে উপরের বিষয়গুলি যাচাই বাছাই করে পছন্দ মত ফ্ল্যাটটি ক্রয় করে থাকুন তাহলে ভবিষৎতে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।
ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য উপরোক্ত তথ্যাদি আপনার জন্য যথেষ্ঠ নয়, তথ্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য প্রদান করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে অভিজ্ঞ উকিলের সাথে যোগাযোগ পূর্বক আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

বি:দ্র :- উপরোক্ত সকল তথ্যাদি অভিজ্ঞ ব্যাক্তি, ইন্টারনেট, ও নিজস্ব মতামতে ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে । তথ্যগুলো সম্পূর্ণ্য  সঠিক ও তথ্যবহুল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে তারপরেও যদি কোন তথ্য আপনার দৃষ্টিতে ভুল, বাদ  অথবা  হালনাগাদ করার প্রয়োজন হলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত, পরামর্শ ও জিজ্ঞাসা জানাতে পারেন। তথ্যটি শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যকে জানার সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করা হল। 

আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন