তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সবচেয়ে বড় সমাবেশ “বিশ্ব ইজতেমার” সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

0
372
প্রতিবছর তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সবচেয়ে বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ নদীর প্রাঙ্গনে। বিশ্বে সবচেয়ে বড় ও বৃহৎ তাবলিগ জামাতের এই সমাবেশটি “বিশ্ব ইজতেমা” নামে পরিচিত। বিশ্বের প্রতিটি দেশ হতে মুসলমান ধর্মপ্রাণ মানুষ সমাবেশটি অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করে। প্রতিবছরের শীতকালীন সময়ে সাধারণত সমাবেশটির অায়োজন করা হয়।বিশ্ব ইজতেমা শব্দটি বাংলা ও আরবি শব্দের সংমিশ্রণ বা মিশ্র শব্দ । যার অর্থ খন্ডন করলে পাওয়া যায় বিশ্ব + ইজতেমা = ইজতেমা অর্থ হচ্ছে > সভা বা সমাবেশ ।
বিশ্ব ইজতেমা ইতিহাস
বিশ্ব ইজতেমার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
তাবলিগ জামাতের প্রথম সমাবেশ কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৬৭ সাল হতে, এখন তা নিয়মিত প্রতিবছরই খুব আগ্রহের সাথে  সমাবেশটির আয়োজিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ইজতেমার প্রথম সমাবেশটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে ঢাকা কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এর পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা,চট্রগ্রাম, নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়। কিন্তু তখন এই সমাবেশটির শুধুমাত্র ইজতেমা নামেই পরিচিত ছিল। ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা একটি ময়দানে ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ওই বছর বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলমান ধর্মালম্বী প্রচুর মানুষ ওই সমাবেশটিতে অংশগহণ করে। তার পর হতেই বিশ্ব মুসলিম দরবারে এই সমাবেশটি খুবই জনপ্রিয় ও পরিচিতি লাভ করে। এবং ওই বছরই সমাবেশটি পরিচিত হয় বিশ্ব ইজতেমা নামে। ১৯৬৭ সাল হতে আজ অবধি “বিশ্ব ইজতেমার” নির্ধারিত জায়গা টঙ্গীর তুরাগ নদী সংলগ্ন ১৬০ একর জায়গার খোলা ময়দানে সমাবেশটির আয়োজিত হয়ে আসছে। এই সমাবেশটিতে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হতে তাবলিগ জামাতের সাথে জড়িত মুসল্লিসহ ২৫ থেকে ৩০ লক্ষাধিক মুসলামান ধর্মালম্বী মানুষ অংশগ্রহণ করে যা মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম আর্ন্তজাতিক মহাসম্মেলন নামেও পরিচিত। প্রতিবছর প্রচুর মুসলিম ধর্মালম্বী মানুষের অংশগ্রহণ হওয়ার কারণে জায়গা সংকুলানের অভাবে বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা দুইটি পর্বে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয়।
“বিশ্বে ইজতেমার” খোলা ময়দানটিতে ছাউনি, চট  ও বাঁশের মাধ্যমে  সাধারণ মুসলমানদের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য পরিবেষ্টিত করা হয় । শুধুমাত্র বিদেশী মুসলমান মেহমানদের জন্য নিরাপত্তা বেষ্টিত টিনের ছাউনি ব্যবহার করা হয়। সমাবেশটিতে অংশগ্রহণকারীর সঠিক জায়গা শনাক্ত করার জন্য নিদিষ্ট খিত্তা ও খুটি নম্বর দ্বারা ভাগ করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশের মধ্যকার মুসলমান অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ ওয়ারী জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।  প্রতিবছর জানুয়ারী মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুক্রবার বাদ জু’মা নামাজের পর হতেই বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং বর্তমান দুইটি পর্ব শেষে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিশ্ব ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম উম্মার সুখ,শান্তি,কল্যাণ, অগ্রগতী,ক্ষমা ও মঙ্গল প্রার্থনা করা এবং একই সঙ্গে ইসলামের মূল ভিত্তি ধর্ম ও আমল সম্পর্কে জানা ও তা কিভাবে পালন করা দরকার তা সর্ম্পকে অবগত হওয়া । বিশ্ব ইজতেমার মূল আকর্ষণ হচ্ছে খোলা ময়দানে লাখো লাখো মুসল্লির ধ্বনিতে আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন প্রার্থনার মাধ্যমে নিজ নিজ ভুল স্বীকার ও নিজের গোপন ইচ্ছা একই সঙ্গে প্রকাশ করতে পারা।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন