স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোর বৈধতা দিল সরকার

0
289
অনেকদিন যাবৎ ঝুলেছিল  স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং উবার, পাঠাও এর মতো সার্ভিস। ঢাকা শহরের মধ্যে যখন চলছিল ট্রাফিক জ্যাম, আর একনায়কতন্ত্রবাদী  সি.এন.জি, অটো-রিকশারমত ড্রাইভাদের মাধ্যমে পরিবহণদের যাত্রী হয়রানির ঘটনা। সেই সময় এক আশার আলো নিয়ে ঢাকা শহরের বুকে প্রথম যাত্রা শুরু করল স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস উবার,পাঠাও, চলো। এই সার্ভিসগুলোর সেবা উপভোগ করে ঢাকার যাত্রীরা পেল নতুন এক অাধুনিকমানের ভ্রমণ স্বাদ। আস্তে আস্তে বিস্তৃত হতে থাকল ঢাকার বুকে স্মাটফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো। নানান রকম সার্ভিস আর ডিসকাউন্ট অফারের ফিচারের মাধ্যমে যাত্রীদের ভ্রমণের নতুন মাত্রা যোগাতে একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়াতে থাকল প্রতিটি রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের সুবিধা। এতে করে যাত্রীদের মাঝে অচিরেই “বিশ্বাস ও আস্থা” নামক শব্দটি অর্জন করে ফেলল সার্ভিসগুলো। এখন যাত্রীদের পুরানো দিনের হয়রানি আর ট্রাফিকজ্যামপূর্ণ্য বিশাদময় ভ্রমণ অভ্যাসের  বিপরীতে নতুন মাত্রা উবার,পাঠাও এরমত সার্ভিসগুলো।
রাইড শেয়ারিং সার্ভিস
স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস
বর্তমানে ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় ও বড় বড় জেলাসমূহে পাঠাও, উবার মতো স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো  বিভিন্ন নামে সার্ভিস ও ভ্রমণ সুবিধা প্রদান করছে। পাঠাও, উবার ছাড়াও ঢাকাতেও বর্তমানে এরকম অসংখ্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠছে । এই সার্ভিসগুলোর সেবা নেওয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের একদিকে অর্থ ও সময় অপচয় কম হচ্ছে অন্যদিকে তাড়া খুব কম সময়ে নিরাপদ ও আধুনিকমানের যাত্রা ব্যবস্থা উপভোগ করছে। এতে করে যাত্রীদের মাঝে তৈরি হচ্ছে এই সার্ভিসগুলোর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা। অন্যদিকে এই সার্ভিসগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠছে অনেক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান তার মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে।
কিন্তু অনেকদিন যাবৎ আইনী প্রক্রিয়ার জন্য বাধাগ্রস্থ ছিল এই সার্ভিসগুলো। ঢাকার যাত্রীরা কিছুদিন এই নতুন সার্ভিসের সুবিধা উপভোগ করলেও তারাও ছিল এক অনাস্থার মধ্যে । ততক্ষণ পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না আসলে কি হতে পারে ? কেননা বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের এর কাছেও ছিল এই বিষয়টি পুরোপুরি এক নতুন পরিবহণ ব্যবস্থা । তাই কোন বিধিামালার মাধ্যমে এই সার্ভিসগুলোকে বৈধতা বা লাইসেন্স প্রদান করা হবে তা ছিল নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কথা চিন্তা করেই এই স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোর কোন প্রকার  ঝামেলা ছাড়াই  এতদিন অস্থায়ী অনুমোদন দিয়ে রেখছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক পর্যায়ে দেখা গেল সার্ভিসগুলোর মধ্যে আস্তে আস্তে পুরানো যাত্রী হয়রানির মত ঘটনা হচ্ছে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের উদ্দ্যেশে   উবার, পাঠাও এর মতো সার্ভিসগুলোর আইনি বৈধতা দিল সরকার। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা কর্তৃক এই সকল স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইট শেয়ারিং সার্ভিসের খসড়া নীতিমালা প্রণয়ণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ে এক বৈঠকে এই নীতিমালার খসড়া অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ মাধ্যমে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম। স্মার্টফোন ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলো ঢাকা-চট্রগ্রামসহ সারা দেশেই এই সেবা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ১১টি শর্ত মেনে এই সেবা দেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। তবে এ জন্য সেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে একটা লাইসেন্স নিতে হবে। পরে সেটা একটি নির্দিষ্ট ফির মাধ্যমে নবায়ন করতে হবে। বর্তমান ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়ার জন্য যে নীতিমাল আছে এ ধরনের রাইডিংয়ের ক্ষেত্রেও সেই নীতিমাল অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ হবে। পাঠাও সার্ভিসের মতো মোটরসাইকেলের মাধ্যমেও এই সেবা দেওয়া যাবে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করলে সনদ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরোও বলেন, বর্তমানেও এ ধরনের সেবা কার্যক্রম চলছে । এটা আইনি কাঠামোয় আনতে নীতিমালা করা হচ্ছে।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন