ইসলাম ধর্মের আইন মোতাবেক পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম

0
1337

পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টন হচ্ছে একজন ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার উত্তরসূরীদের মাঝে ভাগ বা বন্টন করার প্রক্রিয়া।পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন সহ বিভিন্ন বিধি বিধান অনুসরণ করা হয়। বন্টন আইন সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার কারণে বর্তমান সমাজে অনেকসময় দেখা যায় পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনের সময় পরিবারের মধ্যে কলহ বিবাদ শুরু হয় এমনকি খুন-গুমের ঘটনাও ঘটে থাকে। বিশেষত অনেকসময় দেখা যায় বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাই-বোনদের মাঝে বাটয়ারা করার সময় বোনদের সম্পত্তির হিস্যা দিতে ভাইয়ে পক্ষ হতে অনেক অনৈতিক কাজের আশ্রয় নিয়ে থাকে, এভাবে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বোনদের বা মেয়েদের বঞ্চিত করে রাখা হয়।নিউজ-ই-ল্যাব এর সম্মানিত ভিজিটরদের জন্য ইসলাম র্ধমের নিয়ম অনুযায়ী পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনের আইনের তথ্য তুলে ধরা হলো যা, একজন মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমানের জানা অতিব জরুরী।

 

ইসলাম ধর্মের আইন মোতাবেক পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম

ইসলাম ধর্মের আইন মোতাবেক পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম

একজন মুসলমান ব্যক্তি যদি মারা যান তবে তার রেখে যাওয়া সম্পদের বন্টনের পূর্বে কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হয়,যা তার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে লক্ষণীয় করতে হবে যে, ঐ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পদ উত্তরসূরীদের নিকট সম্পদ ভাগ বাটয়ারা করা যাবে।

একজন মুসলমান ব্যক্তির মৃত্যর পর তার সম্পদের ভাগ-বন্টণ করার আগে করণীয়

  • মৃত ব্যক্তির যদি পর্যাপ্ত সম্পদ থাকে, তাহলে তার নিজস্ব অংশ হতে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা।
  • মৃত ব্যক্তি কোন প্রকার ঋণ বা ধার অপরিশোধিত থাকলে, নিজস্ব সম্পদ হতে পাওনাদারের ঋণ/ধার পরিশোধ করা।
  • মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ আছে কি’না তা জেনে নেওয়া ।
  • মৃত ব্যক্তির সম্পদের মধ্যে কোন হেবা বা দানপত্র উল্লেখিত আছে কি’না।

উপরোক্ত বিষয় সমূহ একজন মুসলমান ব্যক্তির মৃত্যের পর করণীয়, এর পর যদি মৃত্যু ব্যক্তির রেখে যাওয়া অবশিষ্ট তা সম্পত্তি থাকবে সেটাই তার উত্তরসূরীদের সঠিক পন্থায় বন্টান করা একজন মুসলমানের দ্বায়িত্ব-কর্তব্য।

সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের কে কি পরিমাণ সম্পদ পাবেন

স্ত্রীর সম্পত্তির উপর স্বামীর উত্তরাধিকার : স্ত্রীর সম্পত্তির উপরে স্বামী দুইভাবে উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি পেতে পারেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্তনাদি থাকে হবে স্বামী পাবে ৪ ভাগের ১ ভাগ।যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্তানাদি না থাকে তবে স্বামী পাবে অর্ধেক সম্পত্তি।

স্বামীর সম্পত্তি উপরের স্ত্রীর উত্তরাধিকার : যদি মৃত ব্যক্তির এবং তার স্ত্রীর সন্তান-সন্তাদি থাকে তবে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির ৮ ভাগের ১ ভাগ পাবেন।অপরদিকে যদি সন্তান-সন্তানাদি না থাকে তবে পাবেন ৪ ভাগের ১ ভাগ।

ছেলে বা পুত্রের সম্পত্তির উত্তরাধিকার : বাবার রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তির উপর পুত্রের শতভাগ অংশীদ্বারী ক্ষমতা প্রাপ্ত থাকে। সেই বলেই অনেক সময় আমাদের সমাজে বিবাদ কলহ শুরু হয়।দেখা যায় বোনের প্রাপ্র সম্পত্তি অসৎ উপায়ে ভাই জবরদখল করে নিচ্ছে ইসলামের নিয়মে যা মোটেও ভাল কাজ নয়।ভাইয়ের দ্বয়িত্ব পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বোনদের প্রাপ্র অংশ বুঝিয়ে দেখা। যদি বোন / বাবার মেয়ে না থাকে তাহলে সম্পূণ্য অংশ ছেলে উত্তারিধাকারী হবে।

মেয়ে বা বোনের সম্পত্তির উত্তরাধিকার : মুসলিম সম্পত্তি আইন অনুযায়ী একজন মেয়ে ৩ নিয়মে পৈত্রিক সম্পত্তি পেয়ে থাকে। যদি এজন মেয়ে হয় তবে দুইভাগের অর্ধেক পাবে। যদি একাধিক মেয়ে হয় তবে সবাইকে তিন ভাগের দুই ভাগ দেওয়া হবে। ছেলে মেয়ে উভয়ই থাকে তবে ছেলে যে পরিমাণ পাবে মেয়ে তার অর্ধেক অংশ পাবে।

বি:দ্র:- উপরোক্ত তথ্য উপাত্তগুলো ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন উৎস থেকে যতটা সম্ভব সঠিকভাবে উপস্থাপন ও আপডেট তথ্য প্রদান  করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার পরেও নির্ধারিত কতৃপক্ষ কতৃর্ক বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন বা পরিমার্জন ও অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। যদি আপনার অতি জরুরী ও নিখুঁত তথ্যের খুবই প্রয়োজন হয় তাহলে ইসলামিক আইন ওয়েবসাইট ভিজিট করতে ভুলবেন না। নিমোক্ত তথ্যগুলো গুলো শুধুমাত্র আপনার তথ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
আমাদের সাথে যুক্ত হতে চাইলৈ : ফেসবুক পেইজ | | ফেসবুক গ্রুপ
উপরোক্ত তথ্য সম্পর্কিত কোন মতামত জানাতে চাইলে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন